দিনাজপুরের বিরামপুরে অটোরিকশা ভাড়ায় চালাতে না দেয়ায় শাশুড়ির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মেহেদুল নামে এক অটোরিকশাচালকের বিরুদ্ধে।বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে পৌর এলাকার পুর্বপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।অগ্নিদগ্ধ শাশুড়ি বুলী বেগমকে (৫৫) মূমুর্ষ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নেয়া হয়েছে। জামাইকে আটকে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর শহরের পূর্বপাড়া এলাকার আফজাল হোসেন ও বুলি বেগম দম্পতির মেয়ে শিল্পী বেগমের সঙ্গে উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে মেহেদুলের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে। জামাই মেহেদুল স্ত্রী শিল্পী বেগমের এক ভাইয়ের অটোরিকশা ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্প্রতি সেই অটোরিকশা ভেঙে শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে আসেন। অটোরিকশার মালিক রিকশা মেরামত করে অন্য চালকের কাছে ভাড়া দিলে জামাই মেহেদুল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বুধবার সকালে মেহেদুল তার শ্বাশুড়িকে বুলী বেগমকে মোবাইল ফোনে বাড়ির বাইরে পাকা রাস্তার উপর ডেকে নিয়ে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। এতে বুলী বেগমের সর্বাঙ্গ আগুনে ঝলসে যায়।
পরে স্থানীয়রা বুলী বেগমকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আঙ্গুরা বেগম জানান, আগুনে বুলী বেগমের মাথা ও মুখমণ্ডল ছাড়া গোটা শরীর ঝলসে গেছে।
বিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।